কারামুক্ত হয়েই বিএনপিতে যোগ দিলেন শরীয়তপুরের আলোচিত যুবলীগ নেতা ও সাবেক প্যানেল মেয়র বাচ্চু ব্যাপারী
জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পরই রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করে নতুন চমক দেখালেন শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র এবং জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা বাচ্চু ব্যাপারী (বাচ্চু বেপারী)। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেল থেকে বের হয়েই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। একসময়ের দাপুটে এই নেতার হঠাৎ দলবদলের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন বাচ্চু ব্যাপারী:
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার চর পালং এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ডামুড্যা ও পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশ থেকে দশটি কালো ব্যাগে ১২৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনায় ডামুড্যা থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
দুদকের মামলা ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ:
শুধু বিস্ফোরক মামলাই নয়, বাচ্চু ব্যাপারীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির বড় ধরনের অভিযোগও। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিল। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক:
শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এই কাউন্সিলর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, গত দেড় দশকে টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির মতো নানা অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
বিএনপিতে যোগদান ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
বিস্ফোরক ও দুদকের এসব মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান বাচ্চু ব্যাপারী। তবে জেল থেকে বেরিয়েই তিনি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
স্থানীয়দের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে বাঁচতে কৌশলগত কারণেই তিনি দলবদল করে থাকতে পারেন। তবে বিগত সরকারের আমলে দাপুটে থাকা বিতর্কিত এই নেতার বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

-2021-08-29-21-21-25.gif)
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: