বিরল জামিনের পর এবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা থেকে সসম্মানে খালাস ঢাবির ফুয়াদের

হাইকোর্ট

গত ১৯ আগস্ট মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে এ রায় দেন। গতকাল বুধবার এই রায়ের অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন তিনি।

আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, এই মামলার শুরু থেকেই আইনি প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো অত্যন্ত কঠোর এবং এর ধারাগুলো অজামিনযোগ্য। সাধারণত এ ধরনের মামলায় আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

তবে ফুয়াদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল ব্যতিক্রম। তিনি প্রথমে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে এই মামলায় আগাম জামিন নেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। সেদিন শুনানি শেষে বিচারক সার্বিক পরিস্থিতি ও মামলার প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাঁকে আত্মসমর্পণমূলক জামিন (সারেন্ডার বেইল) মঞ্জুর করেন।

ঢাকার নিম্ন আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ওই জামিনের ঘটনাটি তখন ঢাকা আদালতপাড়ায় ও আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আইনজীবীদের অনেকেই তখন মন্তব্য করেছিলেন, মামলায় অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার কারণেই আদালত এই বিরল জামিন মঞ্জুর করেছেন।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচারকাজ চলে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে গত ১৯ আগস্ট উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে আদালতকে জানান, ফুয়াদ সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ তাদের অভিযোগের সপক্ষে সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ আদালতে হাজির করতে পারেনি।

সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি বিশ্লেষণ শেষে বিচারক আসামিকে মামলা থেকে সসম্মানে খালাসের নির্দেশ দেন এবং গতকাল রায়টি প্রকাশিত হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সত্য ও ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে। মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের কারণে যেন কাউকে অহেতুক আইনি হয়রানির শিকার হতে না হয়, এই রায় তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ দুই বছর পর আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top