যোগদানের আগের কাজের দায়ভার!

এডিসি শামীমকে নিয়ে ইনকিলাবের রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভুয়া : প্রমাণ দিচ্ছে সরকারি নথি

ছবি : এডিসি শামীম হোসাইন

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. শামীম হুসাইনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, 'ঘুষের হাট' বসানো এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের মতো গুরুতর কিছু অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই সংবাদগুলোর বিপরীতে দৈনিক আমাদের দিনের হাতে আসা ৪৫ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ, ব্যাংক চেকের অ্যাডভাইস ও সরকারি নথিপত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব ভূমি অধিগ্রহণ (এল.এ) কেস ও ক্ষতিপূরণের চেকের ভিত্তিতে বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর অনুমোদন ও স্বাক্ষরের সময় তিনি ওই দায়িত্বেই ছিলেন না। এমনকি কক্সবাজারে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, তার সূত্রপাত ও মূল্য নির্ধারণ হয়েছিল তার সেখানে যোগদানেরও প্রায় তিন বছর আগে। এসব তথ্য জনসমক্ষে আসার পর পুরো অভিযোগের সত্যতা ও সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

কী ছিল পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনগুলোতে?

গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 'দৈনিক ইনকিলাব' পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— “শামীম কেশবদের ঘুষের হাট: হয়রানির আরেক নাম ঢাকা’র এলএ শাখা, দুদকে তদন্তাধীন দুই মামলা”। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একই পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— “যৌথ জরিপে একই স্থাপনা পুনঃঅধিগ্রহণ | অধরা এডিসি শামীম কেশব সিন্ডিকেট ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফেজ-৩ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকার লেনদেন’”। পাশাপাশি, 'আপন দেশ' নামের আরেকটি স্থানীয় পোর্টালেও ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

উক্ত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, ঢাকা এল.এ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখার মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং ৬টি সুনির্দিষ্ট কেস স্টাডি তুলে ধরে বলা হয়, এসব ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানে অনিয়ম করেছেন বর্তমান এডিসি (এল.এ) মো. শামীম হুসাইন। এছাড়া তিনি কক্সবাজারে কর্মরত থাকাকালীন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পৌরসভার পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং পিবিআই কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এজাহারভুক্ত আসামিও বলা হয়।

নথিপত্র ও প্রমাণাদি কী বলছে?

দৈনিক আমাদের দিন এর হাতে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (গোপনীয় শাখা) স্মারক নং- ০৫.৪১.২৬০০.০০০.০২১.০১.০০১.২৫.২২ সম্বলিত ৪৫ পৃষ্ঠার নথিপত্র, ক্ষতিপূরণের অ্যাডভাইস, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এবং রিসিভারি মামলার কাগজাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে চাঞ্চল্যকর ও সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য পাওয়া গেছে।

১. সময়ের গরমিল এবং ভুল ব্যক্তির ওপর দায়ভার:

ইনকিলাবের প্রতিবেদনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ফেজ-৩), ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এবং হাতিরঝিল-রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক প্রকল্পসহ অন্যান্য অধিগ্রহণের ৬টি কেস স্টাডির কথা উল্লেখ করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, মো. শামীম হুসাইন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) হিসেবে যোগদান করেন ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অথচ, পত্রিকায় উল্লেখিত এল.এ চেক এবং অ্যাডভাইসগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেগুলো ইস্যু করা হয়েছে ১৮/০৫/২০২৫, ০২/১২/২০২৫, ১৩/০৫/২০২৬, ২৭/০৮/২০২৫, ০৮/০৪/২০২৬, ১২/০৪/২০২৬ এবং ১৬/০৪/২০২৬ তারিখে।

প্রমাণস্বরূপ, নথির ৫ থেকে ৩১ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত সংযুক্ত অ্যাডভাইসগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) লিটুস লরেন্স চিরান এবং তারও আগে মো. বদরুদ্দোজা শুভ (১৮/০৫/২০২৫ তারিখে)। অনুসন্ধান থেকে আরও জানা যায়, লিটুস লরেন্স চিরানকে জুলাই ২০২৬-এর দিকে পোর্ট ফোলিও পরিবর্তন করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) করা হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন ৩৩তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শামীম হুসাইন।

অর্থাৎ, মো. শামীম হুসাইনের এল.এ শাখায় যোগদানের আগেই এসব ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় ও অ্যাডভাইস প্রদান করা হয়েছিল। নিজের যোগদানের আগের আমলের কাজের দায়ভার সম্পূর্ণ বিনা যাচাইয়ে বর্তমান এডিসির ওপর চাপানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক বলে নথিপত্র থেকে প্রতীয়মান হয়।

২. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ৫০ কোটি টাকার অলীক গল্প:

১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে 'যৌথ জরিপে একই স্থাপনা পুনঃঅধিগ্রহণ' এবং '৫০ কোটি টাকার লেনদেন' সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নথিপত্রে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফেজ-৩ প্রকল্পের প্রত্যাশী সংস্থা (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ) বরাবর জমি ও স্থাপনার দখল হস্তান্তর ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফেজ-৩ এর কাজ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে ফেজ-৪ প্রকল্পের আংশিক জমির জন্য এল.এ কেস (০৭/২০২৫-২৬) চলমান।

এই ফেজ-৪ বাস্তবায়নের ব্যয় যেন কমানো যায় এবং সরকারি অর্থের যাতে সর্বোচ্চ সাশ্রয় হয়, সেজন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং প্রত্যাশী সংস্থা যৌথভাবে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই যৌথ তদন্তের একটি খসড়া কপি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশী সংস্থা বরাবর পাঠানো হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই শেষ হলে তবেই যৌথ তদন্ত চূড়ান্ত হবে। যে বিষয়টি এখনও খসড়া পর্যায়ে এবং সরকারি অর্থ বাঁচানোর জন্যই যার পুনঃযাচাই চলছে, সেখানে ৫০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ নিতান্তই কাল্পনিক ও অবাস্তব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. কক্সবাজার পানি শোধনাগার প্রকল্প: ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত, দোষ ২০২০ সালের কর্মকর্তার!

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কক্সবাজারে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের জমি অধিগ্রহণ না করে বেশি মূল্যের জমি অধিগ্রহণ করে নিজে লাভবান হয়েছেন মো. শামীম হুসাইন। আরও বলা হয়, তৎকালীন মেয়র মজিবুর রহমানের স্ত্রী ফারহানা রহমান ও শ্যালক মিজানুর রহমানকে পুরো প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের অর্থ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.৪১.০০৩.১৭.১২৯৭ (তারিখ: ০৪/১০/২০১৭) এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের স্বাক্ষর করা নথি (তারিখ: ১৬/১১/২০১৭) বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ৩৭ জেলা শহর পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার পৌরসভার ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগারের জন্য ২.১৯৫০ একর জমি অধিগ্রহণের স্থান নির্ধারণ এবং জমির মূল্য (৩৬,৬৩,০৯,৯০৮ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। এই প্রস্তাবটি যথাযথভাবে মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১২/১২/২০১৭ তারিখে প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিতও হয়।

আর মো. শামীম হুসাইন কক্সবাজারে এল.এ শাখার দায়িত্ব পালন করেন অনেক পরে— ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে। যে প্রকল্পের জমি ও মূল্য ২০১৭ সালেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, সেখানে ২০২০ সালে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা কীভাবে সম্ভব— তা এক বড় বিস্ময়।

এছাড়া, পুরো ৩৬ কোটি টাকা মেয়র পরিবারকে দেওয়ার দাবিটিও ডাহা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, রিসিভারি মামলা (নং ০৩/১৯৮৮-৮৯) এবং নামজারি মামলার ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের মোট ক্ষতিপূরণ ৩৬,৬৩,০৯,৫৯.৭৬ টাকার মধ্যে মেয়রের স্ত্রী ও শ্যালক বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে পেয়েছেন মাত্র ৭,১৪,৮৮,৭৮০ টাকা (সাত কোটি চৌদ্দ লক্ষ আটাশি হাজার সাতশত আশি টাকা)। বাকি প্রায় ২৯ কোটি টাকার বেশি পেয়েছেন অন্যান্য বৈধ মালিকরা, যার বিস্তারিত হিসাব জেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

৪. পিবিআই কার্যালয় নির্মাণ ও তদন্ত কমিটির অনুমোদন

পত্রিকায় অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় পিবিআই কার্যালয় নির্মাণের জন্য জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে নথিপত্র বলছে, ওই এল.এ কেসের শ্রেণি পরিবর্তন মো. শামীম হুসাইনের যোগদানের অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে উক্ত প্রকল্প থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আবেদন করেন, তখন ক্ষতিপূরণের নথি অনুমোদনের আগে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), কক্সবাজারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ০৭/০৬/২০২০ তারিখে ওই তদন্ত কমিটির প্রদত্ত সুপারিশ ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এখানে এককভাবে এল.এ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।

৫. মাতারবাড়ী প্রকল্প ও 'কাল্পনিক' দুদক মামলা

প্রকাশিত সংবাদে শামীম হুসাইনকে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী তিনি কখনোই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি কক্সবাজারে সড়ক ও জনপথ, রেল, সেতু, পুলিশ, আনসার, বিজিবি এবং বিমানবন্দর অধিগ্রহণ কার্যক্রমের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সবচেয়ে গুরুতর যে তথ্যটি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তা হলো— প্রতিবেদনে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, দুদক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কখনো কোনো নোটিশ প্রদান করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো মামলার অস্তিত্বই নেই। সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে তাকে 'দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি' তকমা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতা ও মিডিয়া ট্রায়াল

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. শামীম হুসাইন ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক বরাবর একটি বিস্তারিত প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি ৪৫ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ সংযুক্ত করে বলেছেন, "প্রকাশিত সংবাদ দুটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি আশা করি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে এবং প্রকৃত সত্য সবার সামনে তুলে ধরতে আমার এই প্রতিবাদলিপিটি আপনাদের পত্রিকায় একই পাতায় ও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করবেন।"

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকতায় তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা অপরিহার্য। একজন সরকারি কর্মকর্তার পূর্বসূরিদের স্বাক্ষরিত চেক বা যোগদানের অনেক আগের প্রকল্পের দায়ভার কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া তার ওপর চাপিয়ে দেওয়াকে 'মিডিয়া ট্রায়াল' বা চরিত্র হননের শামিল বলে মনে করছেন তারা। এতে শুধু ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মানই ক্ষুণ্ন হয় না, বরং গণমাধ্যমের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এই সরকারি দালিলিক নথিপত্রগুলো জনসমক্ষে আসার পর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি নথিপত্র ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত নিজেদের ভুল সংশোধন করে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top