মরার উপর খাড়ার ঘাঁ : হাসপাতালের ছাদ খসে বৃদ্ধ রোগী আহত

মরার উপর খাড়ার ঘাঁ : হাসপাতালের ছাদ খসে বৃদ্ধ রোগী আহত

এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ! ৬০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুস সালাম হাসপাতালে এসেছেন শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিতে। রাতে হাসপাতালের বেডে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, ওই কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পরে তার উপর। মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বুধবার রাত ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতেও কারো কোন দায়িত্বে অবহেলা বা দোষ খোঁজে পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এখানে কারো কোন দোষ নেই, হাসপাতালের এই ভবনটি গত ৬ মাস পূর্বেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কক্ষ সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই তারা স্বাস্থ্য সেবা চালাচ্ছেন।জানা যায়, গত ২৯ মার্চ বেতাগী সদর ইউনিয়নের কেওরাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত খাদেম হাওলাদারে ছেলে আব্দুস সালাম (৬০) শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বুধবার রাত ১০টার দিকে পুরুষ ওয়ার্ডে ওপরের ছাদের গ্রেট ভিমের পলেস্তারা খসে পড়ে তার আব্দুস সালামের উপর পরে। এ সময় তার মাথায় প্রচণ্ডভাবে আঘাত পেলে জখম হয়। তার পাশের সিটে শুয়ে থাকা রোগীরা ছুটোছুটি করতে থাকে। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় আবার ওই কক্ষেই রাখা হয়।

রোগীর স্বজনরা বলেন, আব্দুস সালাম গত দুই সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট রোগের চিকিৎসায় এখানে ভর্তি আছেন। সিট দেওয়ার সময় নার্সদের বলা হয়েছে সিটের ওপরে জরাজীর্ণ ছাদের অংশ রয়েছে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব দেননি। শেষে সেই দুর্ঘটনাই হলো। একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। পাশের সিটের রোগী নিজাম মুসুল্লি বলেন, ডাক্তারদের বারবার বলেছি যে পাশের বিল্ডিংয়ে জায়গা আছে আমাদের সেখানে থাকতে দেন। তারা আমাদের কথা না শুনে ভাঙা ছাদের তলায় দিয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরও কোনো নার্স বা ডাক্তার আসেনি। অনেক ডাকাডাকির পর নার্স ও ডাক্তার এসে ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মন্নান হাওলাদার বলেন, হাসপাতাল নয় যেন মরণফাঁদ।

এই ভবন দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ তারপরও এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। এর আগেও সিলিং ফ্যান সিটকে পড়ে ও পলেস্তারা খসে পড়ে একাধিক রোগী চিকিৎসারত অবস্থায় আহত হয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই ভবনে চিকিৎসা সেবা বন্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ছয় মাস পূর্বে এই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে ঝুঁকি নিয়ে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করবো পরবর্তী সময়ে যাতে এমন দুর্ঘটনা না হয়। একইসাথে চিকিৎসারত অবস্থায় আহত হওয়া বৃদ্ধের সুচিকিৎসার ব্যপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটা খুবই মর্মাহত ঘটনা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কারও কাজের গাফেলতি হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ছয় মাস আগে এই ভবন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নতুন চারতলা ভবনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল চলতি মাসে। ডিসেম্বরে বর্তমান ভবন ভাঙার কথা থাকলেও না ভাঙায় পরিত্যক্ত ভবনেই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে চলছেন




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top